বাসর রাতে মেয়েদের ভয় কি নিয়ে?
বাসর রাত প্রতিটি মানুষের জীবনেরই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাসর রাত নিয়ে পুরুষের মাঝে যেমন কাজ করে প্রবল উত্তেজনা, নারীর মাঝে কাজ করে ঠিক তেমনি ভয়। শুধু ভয় বললে কম বলা হবে, ভয়-শঙ্কা-অস্বস্তি সব মিলিয়ে অনেকগুলো অনুভব কাজ করে প্রত্যেক নারীর মাঝেই। কমবেশি প্রতিটি নারীরই যৌন মিলনের ভয়টা থাকেই। বিয়ের সাথে জড়িয়ে আছে যৌন সম্পর্কের বিষয়টা এবং প্রেম করে বিয়ে হোক বা পারিবারিক, অবধারিত ভাবেই বিয়ের রাতে এই বিষয়টি নিয়ে প্রবল ভয় কাজ করে নারীদের মাঝে। কেননা এখনো আমাদের দেশের মেয়েরা সাধারণত বিয়ের আগে ভার্জিনই থাকেন। ফলে নিজের জীবনের প্রথম যৌন মিলনের ব্যাপারটি নিয়ে শংকা হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রথম আরেকজন মানুষের সাথে নিরবিলি জীবন, ঠিক আরেকজনও না, বর। এতদিন যাকে কেবল দূর থেকেই দেখেছেন, তার সাথেই এখন কাটাতে হবে জীবন। একই কামরায় দুজনে নিরিবিলি জীবন-যাপন করবেন, একসাথে কাটাবেন জীবনের বাকি রাতগুলো। কী হবে, কেমন হবে ইত্যাদি নিয়ে সব নারীই অনেক কিছু চিন্তা করে ফেলেন।
তাহলে আসুন দেখে নেই মেয়েরা আসলে কি নিয়ে ভয় করে-
১. বিয়ের প্রথম রাত বলে কথা, প্রত্যেক নারীই চান এইদিন তাঁকে পরীর মত দেখতে লাগুক। কেমন দেখাচ্ছে তাঁকে, বরের চোখে ভালো লাগছে কিনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে শংকায় ভোগেন প্রায় সব নারী।
আমাকে কেমন দেখাচ্ছে: আমাকে কি সুন্দর লাগতেছে, ড্রেসটা কি আমার সাথে মানিয়েছে মেকআপটা ঠিক আছে তো ইত্যাদি ইত্যাদি। মেয়েরা নিজের যত্ন নিতে সব সময় লেগে থাকে। আর যদি বিয়ের ব্যাপারটা হয় তাহলে তো কোন কথায় নেই। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত সাজো গুজো করতে। নিজেকে সবার মাঝে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে বিয়ের দিনে বিজি থাকে। আর সব সময় মেয়েরা এটা নিয়ে চিন্তায় থাকে যে আমাকে কেমন দেখাচ্ছে।
২. নতুন একটি মানুষের সাথে শুরু হবে পরের দিনটি। লজ্জা, জড়তা, অস্বস্তি সবকিছু মিলিয়ে একটি নতুন জীবনের যাত্রা। নিজের চিরচেনা জীবনের প্রায় সবকিছুই মেয়েদের ফেলে আসতে হয় বাবার বাড়িতে, নিজের প্রায় সমস্ত অভ্যাসই বিয়ের পর বদলে ফেলতে হয়। পরের দিন সকালটি কেমন হবে, কোন কাজটি কীভাবে করবেন এগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন প্রায় সব নারীই।
৩. আমরা প্রতিটি মানুষই অপরিচিত মানুষকে প্রথমে অনেক ভয় পেয়ে থাকি সেখানে তো মেয়ে আর মেয়েরা অপরিচিত মানুষদের কাছে আরো বেশী ভীতু হয়ে থাকে বা হয়। অনেকেই লাভ ম্যারেজ করে থাকে এখন আপনি ভাবছেন সেখানে ছেলেটাতো পরিচিত সো ভয় পাওয়ার কিছু নাই। নো, মেয়েরা বিয়ের প্রথম রাতে সেই প্রিয় মানুষটার কাছেও ভয় পেয়ে থাকে। হোক না সেটা নিজের বয়ফ্রেন্ড। আর যদি তারা বিয়ের আগেই সেই ভাবে মিশে থাকে। তাহলে তো আমার কিছু বলার নেই আপনারাই বুঝতে পারতেছেন।
৪. কেবল স্বামী তো নন, শ্বশুরবাড়িতে প্রায় সকলেই নতুন। সকলের সাথে মানিয়ে নেয়া, সকলের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার পালারি শুরু হয়ে যায় বিয়ের প্রথম রাতটি থেকেই। পরের দিন থেকেই একেবারে ভিন্ন একটি জীবনের যাত্রা শুরু। বিয়ের রাতে শ্বশুরবাড়ির প্রায় সবকিছুই নিয়েই ভাবতে থাকেন মেয়েরা।
৫. প্রেমের বিয়ে হোক বা পারিবারিক, যৌন অভিজ্ঞতা আগে থাকুক বা না থাকুক- কোন নারীই চান না বিয়ের প্রথম রাতেই গর্ভবতী হয়ে যেতে। কিন্তু প্রথম রাতেই বরের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা অস্বস্তিকর। তাই বলাই বাহুল্য নার্ভাস হয়ে পড়েন নারীরা বিষয়টি নিয়ে।
৬. জীবনে কখনো পরিবারকে ছেড়ে থাকা হয়নি।
কীভাবে থাকা হবে সবাইকে ছাড়া? মা-বাবাকে ছাড়াতে কীভাবে কাটবে জীবন? ইত্যাদি শঙ্কা সব মেয়েকেই কমবেশি ঘিরে ধরে বিয়ের প্রথম রাতে।
এছাড়াও আরোও কিছু বিষয় নিয়ে মেয়েদের ভয় থাকে:
১. উদ্বিগ্ন: বিয়ের দিন আনন্দের চেয়ে মেয়েদের মনে টেনশনই বেশি থাকে। বরের গাড়ির ঠিক সময়ে আসবে তো? আসলে সঙ্গে কে কে আসবে? বিয়ের সমস্ত অনুষ্ঠান ঠিকঠাক হবে তো? কোনো ঝামেলা হবে না তো? এই টেনশনেই পুরো দিনটা কেটে যায়।
২. প্রকৃতির ডাক: ভারী বেনারসি শাড়ি, গহনায় প্রায় ডুবে থাকেন পাত্রীরা। এত সাজসজ্জার পর যদি প্রকৃতির ডাক আসে? মেয়েদের মাথায় যেন বিনামেঘে বজ্রপাত হয়। এতকিছুর পরে কি আর প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া সম্ভব? কিন্তু তা আর তো চেপে রাখা যাবে না। তাই অনেকেই শেষ মুহূর্তে সাজগোজ সারতে পছন্দ করেন।
৩. আত্মীয় বিড়ম্বনা: বিয়ে মানেই আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতি। কাছের লোকেদের কথা আলাদা, কিন্তু এদিন এমন অনেক ‘আত্মীয়’র আবির্ভাব হয় যাদের কোন দিনও দেখা যায় না। অথচ সব বিষয়ে তাদের অগাধ জ্ঞান। এ জ্ঞানের ঠেলায় অনেক সময়ই কনের মনে হয় পালিয়ে বাঁচলেই বেশ হত।
৪. অচেনা: একে চিনতে পারলি? এ প্রশ্নের সম্মুখীন প্রত্যেক কনেকে হতে হয়। যাদের কোন দিনও চোখে দেখেননি তার বংশ পরিচয় নিয়ে কৈফিয়ত দিতে হয়। কে কার মামার ছেলের কাকির বউ? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতেই জীবন যায় যায় অবস্থা।
৫. বাসর রাত: তবে বিয়ের দিন মেয়েরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন বাসর রাত নিয়ে। বিশেষ করে যদি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হয়। প্রায় অচেনা পুরুষের সঙ্গে একঘরে থাকার অনুভূতি মনে অজানা ভয়ের সৃষ্টি করে।
প্রতিটি মেয়ের মধ্যে বিয়ের রাতে সব থেকে বেশি যে ভয়টা থেকে থাকে সেটা হলো যৌন মিলনের ভয়। মেয়েরা স্বভাবতই এই কাজটি করতে লজ্যাবোধ বা ভয় করে থাকে। তাই যদি কোন মেয়ে প্রথম রাতেই খুব বেশী ভয় পেয়ে যায়। তাই আপনারা এটাকে খারাপ বা নেগেটিভ ভাব বেন না। যে মেয়ে যত বেশী ভয় পায় সে মেয়ে তত বেশী নিজেকে সতি বলে প্রমাণ করবে। তাই সতি মেয়েরা বিয়ের প্রথম রাতে অনেক বেশী ভয় পেয়ে থাকে।
.
ফুলশয্যার রাতে মিলনে ভয়? টেনশন দূর করুন এই ৬ উপায়ে :
বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে প্রথমবার যৌন মিলন নিয়ে অনেকের মনের মধ্য়ে লুকিয়ে থাকে নানা ফ্যান্টাসি। অনেকেই প্ল্যান করে ফেলেন, ঠিক কী কী করবেন ফুলশয্যার রাতে। তবে শুধুই মেয়েদের নয়, এ ব্যাপারে যেন এক কাঠি উপরে থাকেন পুরুষেরাও। ফুলশয্যার রাতে পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে একটু টেনশনেই থাকেন। আর যদি পুরো ব্যাপারটা অ্য়ারেঞ্জ ম্যারেজ হয়, তাহলে টেনশন দ্বিগুণ!
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কোনও সমস্যাই নয়। বরং কয়েকটি উপায় মেনে চললে, খুব সহজেই এই সমস্যার সমাধান করা যায়।
১) প্রথমেই নিজেকে টেনশন মুক্ত করুন। যৌন মিলনের সময় কী হবে, কীরকম হবে এই নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা একদম নয়। বরং ব্যাপারটাকে একটু হালকা নজরেই দেখুন।
২) ফুলশয্যার রাতে দুম করেই মিলনে লিপ্ত হয়ে পড়বেন না। বরং দুজনে মন খুলে কথা বলুন। দেখবেন ধীরে ধীরে দুজনের মধ্য়ে কমফোর্ট জোন বাড়বে। তারপর সব কিছুই হয়ে যাবে সহজ।
৩) অনেক মেয়েদের মাথায় দুশ্চিন্তা থাকে যে যৌনমিলন খুবই যন্ত্রণাদায়ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অযথা এই নিয়ে চিন্তা করার কোনও দরকার নেই। বরং এসব না ভাবে রিল্য়াক্স থাকুন। এ ব্যাপারে পুরুষদের জন্য আলাদা টিপস। আপনার স্ত্রীকে একটু সময় দিন। তাড়াহুড়ো একদম নয়।
৪) ফুলশয্যায় যৌন মিলন করতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই। যদি মনে হয়, কোনও কারণে অস্বস্তি রয়েছে, তাহলে সময় নিন।
৫) মিলনের ক্ষেত্রে দুপক্ষের সম্মতিই প্রয়োজন। তাই একজন যদি কোনও কারণে অনীহা দেখায়, তাহলে আরেকজনকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
৬) যৌন মিলন নিয়ে কোনও ধরনের প্রশ্ন থাকলে, নিজে ডাক্তারি না করে, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করুন। দেখবেন এতে আপনারই উপকার।
