স্বামী স্ত্রীর সবচেয়ে আনন্দের মূহুর্ত হলো মিলন। ইসলাম যৌনমিলন শুধুমাত্র স্বামী স্ত্রীর জন্য বৈধ্য করেছে- আমাদের সবার মনে রাখা জরুরি স্বামী স্ত্রীর যৌনমিলন ইবাদাত, আল্লাহর সন্তুষ্টি।
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সম্পর্ক এবং যৌনমিলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র কাজ। এটি শুধুমাত্র শারীরিক চাহিদা মেটানোর উপায় নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নেয়ামত এবং ইবাদতের অংশ। বৈধ পথে যৌনমিলন (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে) আল্লাহর আদেশ পালন করার একটি মাধ্যম। কুরআন এবং হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মানুষের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা বৈধ উপায়ে পূরণ করতে হবে। হারাম পথ পরিহার করে বৈধ পথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তা আল্লাহর কাছে প্রশংসনীয় এবং সওয়াবের কাজ।
বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব হয়, যা উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক একটি দায়িত্বপূর্ণ বন্ধন। একে অপরের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পূরণ করাও একে অপরের প্রতি তাদের অধিকার ও দায়িত্ব।
সুতরাং, স্বামী-স্ত্রীর বৈধ যৌনমিলন কেবল প্রবৃত্তি পূরণের বিষয় নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, হারাম থেকে বাঁচা, এবং দাম্পত্য জীবনের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
’আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা আয যুবাঈ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সংখ্যক সাহাবী তার কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ধন সম্পদের মালিকেরা তো সব সাওয়াব নিয়ে নিচ্ছে। কেননা আমরা যেভাবে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করি তারাও সেভাবে আদায় করে। আমরা যেভাবে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করি তারাও সেভাবে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করে। কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত সম্পদ দান করে সাওয়াব লাভ করছে অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা কি তোমাদেরকে এমন অনেক কিছু দান করেননি যা সাদাকা করে তোমরা সাওয়াব পেতে পার? আর তা হলো প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ) একটি সাদাকা, প্রত্যেক তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) একটি সাদাকা, প্রত্যেক তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলা একটি সাদাকা, প্রত্যেক ’লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলা একটি সাদাকা, প্রত্যেক ভাল কাজের আদেশ দেয়া এবং মন্দ কাজ করতে দেখলে নিষেধ করা ও বাধা দেয়া একটি সাদাকা্। এমনকি তোমাদের শরীরের অংশে সাদাকা রয়েছে। অর্থাৎ আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সাদাকা। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ তার কাম প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করবে বৈধ পথে আর এতেও কি তার সাওয়াব হবে?
তিনি বললেন, তোমরা বল দেখি, যদি তোমাদের কেউ হারাম পথে নিজের চাহিদা মেটাত বা যিনা করত তাহলে কি তার গুনাহ হত না? অনুরূপভাবে যখন সে হালাল বা বৈধ পথে কামাচার করবে তাতে তার সাওয়াব হবে।
-সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১০০৬ (বিভিন্ন সংস্করণে ভিন্ন হতে পারে)
-মিলনতত্ত্ব
Group- মিলনতত্ত্ব (SexEducation & Solution Centre)
